
নিজস্ব প্রতিবেদক
কারও মাথায় হেলমেট, কারও হাতে ধারালো অস্ত্র আবার কারও হাতে লাঠিসোঁটা। তাদের মধ্যে অনেকেরই পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেমে থেমে দিনভর চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দফায় দফায় হামলা, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং মিছিলে মিছিলে চট্টগ্রামের নিউমার্কেট ও আশেপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসময় প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন।
তাদের মধ্যে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একজনের পায়ের গোড়ালি অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে দেখা যায়। ছাত্রশিবিরের দাবি আহত শিক্ষার্থীর নাম মোহাম্মদ আশরাফ। তিনি পাহাড়তলি ওয়ার্ড শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও সিটি কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। দুপুর ১২টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে উভয়পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে। এসময় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় চলতে থাকতে। এসময় কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছে।
মঙ্গলবার সিটি কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি ও মাস্টার্সের বিভিন্ন কোর্সের পরীক্ষা ছিল। বিষয়টি কলেজ প্রশাসন বুঝিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। তবে এদিন সিটি কলেজের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ও ক্লাস বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এদিকে, বিকেলে এ ঘটনার প্রতিবাদে নিউমার্কেট মোড়ে মিছিলের আয়োজন করে ছাত্রশিবির। এসময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। এতে ফের উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এবং জামায়াতের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়। বেশ কিছুক্ষণ ধরে সংঘর্ষ চলতে থাকে। এসময় হেলমেট মাথায় কয়েকজনকে সংঘর্ষে অংশ নিতে দেখা যায়। একই সঙ্গে ধারালো অস্ত্র এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলায় অংশ নিতে দেখা যায় অনেককেই। এসময় আতঙ্কে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল এবং দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনে জুলাই-আগস্টের গ্রাফিতিতে নিচে লেখা ছিল ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস। পরবর্তীতে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী গিয়ে সেখানে ছাত্র শব্দটি মুছে দেয় এবং তারপর ওপর লিখে দেয় গুপ্ত। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত আইডিতে প্রচার করেন আল মামুন। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। একপর্যায়ে মঙ্গলবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে জড়ায় উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা।
চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক জাহিদুল আলম জয় বলেন, অস্ত্রধারীরা ছাত্রদলের নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে রামদা হাতে ওমর গনি এমইএস কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব মির্জা ফারুককে শনাক্ত করা গেছে। ছাত্রদলের হামলায় অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সৌরভ প্রিয় পাল বলেন, শিবিরের নেতাকর্মীরা কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে হামলা চালিয়েছে। আমাদের ৫ থেকে ৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
কলেজের অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন বলেন, প্রথম দফায় সংঘর্ষের পর বুঝিয়ে বলার পর শিক্ষার্থীরা সরে যান। এরপর দুপুর ১২টার পর থেকে কলেজের অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখা হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।